|| ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
আধুনিক ব্যবস্থাপনায় বিরামপুরে কুল চাষে সাফল্য
প্রকাশের তারিখঃ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চন্ডিপুর চায়না অফিস সংলগ্ন এলাকায় কুল বা বড়ই চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লিয়া কুলবাগান। রমজান মাসকে সামনে রেখে এই বাগানের উৎপাদিত কুল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হওয়ায় বাজারে ফলের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মহাসড়কের পাশেই প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বাগানে রয়েছে প্রায় ৪৫০টি কুল বা বড়ই গাছ। কুল চাষের পাশাপাশি বাগানে লিচু গাছও রয়েছে। আধুনিক পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বাগানটি বর্তমানে একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
বাগানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, বাগানে নিয়মিত ছয় থেকে সাতজন শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা গাছে স্প্রে করা, পরিচর্যা, কুল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কর্মচারীদের মধ্যে সাইদুর রহমান, রেজাউল ও সাহাজুলসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
পাখির হাত থেকে কুল রক্ষায় পুরো বাগানটি নেট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে কিছু পাখি ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে ক্ষতি করার চেষ্টা করে বলে জানান তিনি। দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি কুল সংগ্রহ করা যায়।
সংগ্রহ করা কুলগুলো কার্টুনে করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। প্রতি কার্টুনে থাকে ৩৫ থেকে ৩৭ কেজি কুল।
লিয়া কুলবাগানের মালিক ডাঃ তৌফিক এলাহী উচ্ছাস বলেন, “কৃষিই আমাদের দেশের মূল শক্তি—এই বিশ্বাস থেকেই আমি এই বাগান গড়ে তুলেছি। আমার লক্ষ্য আধুনিক পদ্ধতিতে ফল চাষ করে মানসম্মত উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করে অন্যান্য ফল চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, রমজান মাসে মানুষের পুষ্টিকর ও নিরাপদ ফলের চাহিদা পূরণে এই বাগান ভূমিকা রাখতে পারলেই তাঁর উদ্যোগ সার্থক হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, “লিয়া কুলবাগানটি বিরামপুর উপজেলায় আধুনিক ফল চাষের একটি সফল উদাহরণ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় এখানে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ রমজান মাসে ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.