|| ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
জোটের সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী ডা. মোবিন, জনমনে হতাশা
প্রকাশের তারিখঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
মো: আতাউর রহমান সরকার ( মতলব উত্তর প্রতিনিধি) :
চাঁদপুর–২ (মতলব উত্তর–দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে জোট রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আ. মোবিন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ডা. মোবিন জানান, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও জোটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই তিনি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে চাঁদপুর–২ আসনে জামায়াত প্রার্থী থাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।
ডা. মোবিন তার পোস্টে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন,
“আলহামদুলিল্লাহ— মাঠের নেতা-কর্মী, সহযোদ্ধা, শুভানুধ্যায়ী ও আমার সাহচর্যি— সবার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।”
তিনি আরও বলেন, মতলবের মাটি ও মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সাড়া পেয়েছেন, সেটিই তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে। একজন শপথের কর্মী হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ তার নেই বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়,
“নমিনেশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কেন্দ্র। আমি শপথের কর্মী। আমার কাছে দ্বিতীয় কিছু নাই।”
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আল্লাহ যে পরিসরে সুযোগ দেবেন, সেখানেই তিনি মতলবাসীর পাশে থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন। তার লেখায় মতলবের নদী, চর ও মানুষের সঙ্গে আজীবন পথচলার কথাও উঠে আসে।
এদিকে ভোটার এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডা. আবদুল মোবিনকে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা ছিল। অনেক ভোটারই তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তবে হঠাৎ করে তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণায় তারা এখন হতাশ ও আশাহত। স্থানীয়দের মতে, ডা. মোবিনের ব্যক্তিত্ব, মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের আশা তৈরি করেছিল।
ডা. মোবিনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর চাঁদপুর–২ আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এলডিপির (ছাতা প্রতীক) বিল্লাল হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে। ফলে এই আসনে জোটের পক্ষ থেকে আর কোনো জামায়াত প্রার্থী থাকছে না।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগ তৈরি হলেও জোটের স্বার্থে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো চাঁদপুর–২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর–২ (মতলব উত্তর–দক্ষিণ) আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মো. জালাল উদ্দিন, জামায়াতের ডা. আবদুল মুবিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানছুর আহমেদ সাকি, বিআরপির ফয়জুন্নুর আখন রাসেল, এলডিপির বিল্লাল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. এমরান হোসেন মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের গোলাম হোসেন, নাগরিক ঐক্যের এনামুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির রাশেদা আক্তার এবং লেবার পার্টির নাসিমা আক্তার।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.