|| ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
বিল পরিশোধে চরম অবহেলা: ১২ দিন অন্ধকারে কেটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠদান ব্যাহত
প্রকাশের তারিখঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণে টানা ১২ দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পাঠদান চলছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের কেটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিলের কপি দাখিল করা হলে তা পরবর্তীতে সরকারি ভাবে সমন্বয় করা হয়। কিন্তু কেটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
সূত্র মতে, বিদ্যালয়ের তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ মোট ৭ হাজার ৮৬৪ টাকা গত ৩০ ডিসেম্বর বিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে উত্তোলন করা হয়। তবে অর্থ উত্তোলনের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না হওয়ায় বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যালয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পাশের বাড়িতে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে, যা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য চরম অস্বস্তিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন,
“প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রায় ১২ দিন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পাঠদান গ্রহণ করতে হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুমিনুল হক জানান, “গত ৩০ ডিসেম্বর তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকা আমাকে প্রদান করা হয়েছিল। আজ ১২ জানুয়ারি আমি মোট ১০ হাজার ১২ টাকা বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হবে।”
এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অবহেলা আর না ঘটে, সে জন্য প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল তদারকি ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.