|| ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
হাতিয়ায় বিএনপি অফিসে হামলা,আহত ৪
প্রকাশের তারিখঃ ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
মোঃ জাকের হোসেন
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভৈরব বাজারে বিএনপির ওই কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের চারজন নেতাকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতরা হলেন—চরকিং ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য মো. সাহারাজ (৩২), একই ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী মো. রুবেল (৩৫), মো. মনির (৩৮) এবং হাতিয়া উপজেলা সদস্য সংগ্রহ কমিটির সদস্য কবির উদ্দিন মজনু (৪৮)।
চরকিং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোজাক্কের বারী অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে চরকিং ইউনিয়নের ব্রিজ বাজারের দক্ষিণ মাথায় একটি চায়ের দোকানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু তাহেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার চার দিন পর ১৭ ডিসেম্বর তিনি আবু তাহেরসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে হাতিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব উদ্দিন ভৈরব বাজারে আসেন। অভিযানের সময় তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিয়াজকে পুলিশকে দেখিয়ে দেন। এর জের ধরে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবু তাহেরের নেতৃত্বে রহিম মাঝি, দিদার, বিদ্যুৎ, আবুল কালাম বাশার ও জুয়েলসহ তার অনুসারীরা ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় কৃষকদল নেতা সাহারাজকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় এবং আরও তিনজনকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করা হয়। পাশাপাশি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ বিষয়ে চরকিং ইউনিয়নের বিএনপি'র সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, মামলার এজহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয় নিয়ে বাজারে হট্টগোল শুরু হয়। এই ঘটনার পর আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন এসে অতর্কিত আমাদের বিএনপির অফিসে হামলা করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহেরের মুঠোফোনে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে, সে বিষয়ে মামলাও রয়েছে। এটি রাজনৈতিক কোনো হামলা নয়।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.