|| ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
নান্দাইল বিজয় মেলায় ৬০ কেজি ওজনের বিলাতী কচু, দর্শনার্থীদের কৌতূহল
প্রকাশের তারিখঃ ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দিনব্যাপী বিজয় মেলা। ১৬ ডিসেম্বর আয়োজিত এই মেলায় নানা ধরনের পণ্য, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সরকারি-বেসরকারি স্টলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রদর্শনী ছিল অন্যতম আকর্ষণ। কৃষিপণ্য প্রদর্শনীর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কেড়েছে চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি গ্রামের কৃষক শহীদুল্লাহর উৎপাদিত বিশাল আকৃতির বিলাতী কচু।
কৃষক শহীদুল্লাহ বিজয় মেলায় প্রদর্শনের জন্য প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার এবং প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি বিলাতী কচু নিয়ে আসেন। এমন বিশাল ও ভারী কচু এক নজর দেখতেই মেলার দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। কচুটি দেখতে ভিড় জমান বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়লে আরও দর্শনার্থী কচুটি দেখতে মেলায় আসেন বলে জানান আয়োজকরা।
কচুটির পাশে টানানো একটি ব্যানারে কৃষক শহীদুল্লাহ বিলাতী কচুর পরিচিতি ও উপকারিতাসমূহ তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে একে বিলাতী কচু বলা হলেও এটি সাধারণ কচুরই একটি উন্নত জাত। এর ইংরেজি নাম Esculent root এবং এটি Araceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও সঠিক পরিচর্যা করলে এই কচু আকারে অনেক বড় হয় এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়।
ব্যানারে উল্লেখ করা তথ্যানুযায়ী, বিলাতী কচু ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও আঁশে ভরপুর একটি পুষ্টিকর সবজি। এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন, যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়ক। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত কচু খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে বলেও জানান কৃষক শহীদুল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, কচুর লতি ওজন কমাতে সহায়ক এবং স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। গর্ভবতী নারীদের জন্যও এটি একটি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচিত। শহীদুল্লাহর ভাষ্য, “এই কচু খেতে খুবই সুস্বাদু। এটি এতটাই নরম যে ইচ্ছা করলে কাঁচাও খাওয়া যায়।”
কৃষক শহীদুল্লাহ জানান, তার জমিতে উৎপাদিত কচু স্থানীয় বাজারে প্রতি পিস ১ হাজার থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ ও ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, “এর চেয়েও বড় কচু আমার জমিতে হয়েছিল, যেগুলো আগেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছি।” বিজয় মেলায় তার এই ব্যতিক্রমী কৃষিপণ্য প্রদর্শনী কৃষিতে আধুনিক চাষাবাদের সম্ভাবনা ও সাফল্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.