|| ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
খুলনার মুহসিন মহিলা কলেজে বরখাস্তকৃত সাবেক অধ্যক্ষের দূর্নীতি ঢাকতে অবৈধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক উপাধ্যক্ষের বেতন স্থগিত।
প্রকাশের তারিখঃ ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
তেরখাদা প্রতিনিধিঃ
খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরে মুহসিন মহিলা কলেজের বরখাস্তকৃত সাবেক অধ্যক্ষ মো আব্দুল লতিফ এর দূর্নীতি ঢাকতে গিয়ে বর্তমান অবৈধ
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব নওরোজী কবির কলেজের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ জনাব মো মাহফুজার রহমান এর বেতন স্থগিত করেছেন । সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,
কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে সাবেক অধ্যক্ষ মো আব্দুল লতিফ এর বিরুদ্ধে এক কোটি একুশ লক্ষ বিরাশি হাজার ছয় শত চুয়াত্তর টাকা
আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক অন্যান্য অনিয়মের প্রমান পাওয়ায় তাকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ জুলাই তারিখে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই দিনে কলেজের উপাধ্যক্ষ মো মাহফুজার রহমান কে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এদিকে মো আব্দুল লতিফ বরখাস্ত থাকা অবস্থায় ১৪ আগষ্ট
কলেজের ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক নওরোজী কবির কে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে একটি চিঠি প্রদান করেন। এব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত ১০ জুলাই অবহিত করণ পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে অত্র কলেজে জনাব নওরোজী কবিরের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার কোন সুযোগ নেই এবং তার এই দায়িত্ব গ্রহণ বিধি বহির্ভূত । অন্যদিকে একই পত্রে মো মাহফুজার রহমান বিধি সম্মত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে । তারপরও অজানা কারণে গত ১৭ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত সদস্যদের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি তোয়াক্কা না করে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন ও নওরোজী কবির জোর করে তার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে ভুতাপেক্ষা নিয়োগ অনুমোদন করেন । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও কেমন করে নওরোজী কবির এর ভূতাপেক্ষা নিয়োগ অনুমোদন করা হলো তা জানতে চাইলে কলেজের সভাপতি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ।এব্যাপারে জনাব নওরোজী কবির বলেন,এদিকে উপাধ্যক্ষ পদে মো মাহফুজার রহমান এর এমপিও সম্পন্ন হয়ে বেতন আসলেও বিধি বহির্ভূত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব নওরোজী কবির উপাধ্যক্ষের বেতন কোন কারণ ছাড়াই স্থগিত করে ইএফটিতে কলেজের অন্য সকলের বেতন সাবমিট করেছেন ।
জানা গেছে নওরোজী কবির বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, উপাধ্যক্ষের বেতন হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাবেন ফলে সাবেক অধ্যক্ষ মো আব্দুল লতিফ এর ক্ষতি হয়ে যাবে । এসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নওরোজী কবির
বলেন, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন বলেন,
তবে এমন হঠকারীভাবে উপাধ্যক্ষের বেতন বন্ধ করায় কলেজের শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । নওরোজী কবিরের একতরফা দাপটে কলেজের সর্বস্তরের শিক্ষক কর্মচারী আতঙ্কে আছে এবং তার ভয়ে কেউ
মুখ খুলতে চায় না । কেউ কোন যৌক্তিক কথা বলতে গেলেই তিনি বহিরাগতদের কলেজে ডেকে এনে সেই শিক্ষককে অপদস্ত করান । ইতোমধ্যে কলেজ পরিচালনা
পর্ষদের একজন শিক্ষক প্রতিনিধির সাথে এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে । জনাব নওরোজী কবির নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে প্রায় প্রতিদিন কলেজ প্রাঙ্গণে ১০/১২ জন বহিরাগতকে ডেকে আনেন। এতে করে মহিলা কলেজের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া কলেজ পরিচালনা
পর্ষদের সভাপতি জনাব ইকবাল হোসেন প্রায় প্রতিদিন ই কলেজে আসেন, তিনি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাসও নিচ্ছেন। এটা নিয়ে কলেজে একটা গুঞ্জন চলছে এবং তাকে নিয়ে ছাত্রী সহ অনেকেই বিব্রত হচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে সভাপতি মহোদয় এর বিনিময়ে কলেজ থেকে সম্মানি গ্রহন করতে চান। একাধিক শিক্ষক ওছাত্রী অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমন সভাপতি কলেজের উন্নয়ন তো দুরের কথা নিজ স্বার্থে কলেজের ক্ষতিই করবে । এব্যাপারে তারা যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বরখাস্তকৃত সাবেক অধ্যক্ষ মো আব্দুল লতিফ পিছন থেকে সমস্ত কলকাঠি নাড়ছেন । তার বিরুদ্ধে এক কোটি একুশ লক্ষ বিরাশি হাজার ছয় শত চুয়াত্তর টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টা ডিসমিস করার জন্য তিনি স্থানীয় বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে কলেজটা তার নিজের ইশারায় চালাচ্ছেন । মো আব্দুল লতিফ এর আর্থিক দূর্নীতি নিয়ে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর আমলী আদালত, দৌলতপুরে মামলা চলমান যার নং- সিআর ২৩৯/২৫ । এ-ব্যাপারে জনাব মো আব্দুল লতিফ কে জিজ্ঞেস করলে বলেন,
এদিকে গত ১৩/৬/২৫ তারিখে আলাদা আলাদা তিনটি নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে কলেজে ৭ টি শুন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষা গৃহীত হয় । পরীক্ষার ২/৩ দিন পরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে জনাব মো তানভীর আহমেদ ও ল্যাব সহকারী (পদার্থ বিজ্ঞান) পদের জনাব হাদিউজ্জামান এই দুজন প্রার্থী তাদের প্রার্থীত
পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে সভাপতি বরাবর আবেদন করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ আপাতত বন্ধ রেখে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করায় । কিন্তু তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় নাই বলে মতামত দিয়ে কলেজ কতৃপক্ষের নিকট তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করেন । একই সাথে উক্ত দুজন নিয়োগ প্রার্থী দৌলতপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, খুলনাতে একই অভিযোগ করে মামলা রুজু করেন যার
নং- দেওয়ানী ১১৫/২৫ এবং নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করেন । কিন্তু মাননীয় আদালত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দরখাস্ত নামঞ্জুর করে দিয়ে আদেশ দেন । ফলে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সার্বিক বিষয় আলোচনা করে পদ ভিত্তিক নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রাপ্ত সকলকে নিয়োগ প্রদান করেন । কাগজ পত্র যাচাই করে দেখা যায় বরখাস্তকৃত সাবেক অধ্যক্ষ মো আব্দুল লতিফ অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় জুলাই মাসের ১৬ তারিখের আগেই সকলকে যোগদান করিয়েছেন।
ইতোমধ্যে চলমান অডিটে সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতির প্রমাণ প্রকাশ্যে আসলে তিনি কৌশলে তা ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সাবেক সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন রটনা রটানো শুরু করেন এবং নিয়োগ নিয়ে মুখরোচক কথা প্রচার করতে থাকেন। এসব রটনার সত্যতা আজও
পাওয়া যায়নি। এরপর উক্ত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের প্রার্থী জনাব মো তানভীর আহমেদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একই বিষয়
নিয়ে অভিযোগ করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রতিনিধি মনোনয়ন করে কলেজে চিঠি পাঠায়। একই বিষয় নিয়ে বিচারিক আদালতে বিচারাধীন
রয়েছে বিধায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি জনাব শেখ কামরুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করেন এবং মহামান্য হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত
সংক্রান্ত উক্ত অফিস আদেশ স্থগিত করেন এবং একই বিষয় নিয়ে অন্য কোন কতৃপক্ষের তদন্ত করার আইনগত সুযোগ নেই জানিয়ে আদেশ দান করেন ( রিট নং-
১৫১৩০/২০২৫) । তদন্ত স্থগিত থাকা সত্ত্বেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড মো নুরুল ইসলাম ও প্রোক্টর ডক্টর ফারুক আহম্মদ গত ৭/১১/২৫
তারিখ কলেজে এসে তদন্ত করে গেছেন এবং তারা নিয়োগ পরীক্ষার সকল পদের লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সাথে করে নিয়ে গেছেন । মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ
অমান্য করে তদন্ত করা যায় কিনা এবং অভিযুক্ত পদের লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সহ অন্যান্য পদের লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র আদালতের আদেশ ব্যতিত নেওয়া যায়
কিনা জানতে চাইলে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ---
কলেজের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে শিক্ষক কর্মচারী, শিক্ষার্থী, ছাত্রী অভিভাবক সহ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে । তারা সকলেই আশু
সমাধানের জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । অন্যথায় মুহসিন মহিলা কলেজটিতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়া সহ বড় ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হতে
পারে ।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.