|| ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
কমলনগরে উপজেলা প্রকৌশলীই এখন ঠিকাদার
প্রকাশের তারিখঃ ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
সিরাজুলইসলাম কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের ৬টি প্রকল্পের নয়ছয় করে ৩৩লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইলজিইডি'র উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেই ‘ঠিকাদার’ হয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং পরে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে বিল উত্তোলন করেন। মেসার্স আনাস এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স ফয়সাল এন্ড ব্রাদার্স ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এ সব অপকর্ম করেছেন তিনি ।
জানা যায়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ৬টি প্রকল্পে আরএফকিউ ও পিআইসির মাধ্যমে ৩৩লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুমোদন করেন উপজেলা পরিষদ। প্রকল্পগুলো হলো-চরমাটিন ইউনিয়নের বলিরপুল সড়কে ২টি কালভার্ট নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারের বরাদ্দ ১৩ লাখ টাকা, তোরাবগঞ্জ সড়ক ও ড্রেন সংস্কার বরাদ্দ ৬লাখ টাকা, উপজেলা পরিষদের গ্রেজেটেট নন গ্রেজেটেট কোয়ার্টার ও অন্যান্য সংস্কার বরাদ্দ ৫লাখ টাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট সংস্কারে বরাদ্দ ৪ লাখ টাকা ও হাজিরহাট দক্ষিণ বাজার ড্রেন সংস্কারে, বরাদ্দ ৩লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। কিন্তু সব প্রকল্পেই নয়ছয় করে বিশিরভাগ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চরমার্টিন বলির পুল রাস্তা সংস্কার ৬লাখ ৫০হাজার টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় লাখ টাকার মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। আবার ওই সড়কে দুটি কালভার্টের ৬লাক ৫০হাজার টাকা ব্যয় ধরা হলেও মাত্র একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। ওখানেও রয়েছে বড় গলদ। তোরাবগঞ্জ সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে ৬লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও এক থেকে দেড় লাখ টাকার কাজ হয়েছে বলে ব্যবসায়িরা জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টয়লেট সংস্কার নামে ৪লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও সামান্য কিছু কাজ বাকি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হযেছে। এদিকে উপজেলা পরিষদের গ্রেজেটেট ও নন গ্রেজেটেট কোয়ার্টার সংস্কারে ৫লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও কিছু কিছু অংশে রঙ্গের কাজ করেই শেষ। এছাড়াও হাজিরহাট বাজারের ড্রেন সংস্কারে ৩লাখ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও এক থেকে দেড় লাখ টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
চরমার্টিন বলিরপুল এলাকার বাসিন্দা হোসেন আহমেদ জানান, এ রাস্তা বন্যার সময় ভেঙ্গে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহাত উজ জামান স্যারের কাছে সমস্যার কথা বলার পর পরিষদের অর্থায়নে দিয়ে বেধে দিয়েছে। তাছাড়া মাটিতো আমি দিয়েছি। তাহলে এত টাকা লাগবে কেন? ওই সড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানান, উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ এ উপজেলা আসার পর থেকে নিজে অনেকগুলো কাজ করেছেন। অতীতের কোন প্রকৌশলী এমন করেনি।
এ বিষয়ে আনাস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, এ কাজগুলো উপজেলা পরিষদ থেকে করা হয়েছে। শুধু আমাদের লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাহিরে আমি কিছু জানিনা।
এ বিষয়ে এলজিইডি'র উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ৬টি প্রকল্প আমি নিজেই স্টীমেট করে দিয়েছে। আমার স্বাক্ষরে বিল উত্তোলন হওয়ার কথা। এখন শুনছি আউটসোর্সিংয়ের লোক দিয়ে বিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এভাবে বিল করার কোন নিয়ম নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ বলেন, কোন অনিয়মের সাথে আমি সম্পৃক্ত নই। তাছাড়া চাকরীকে অনেক ভালো বাসি; আমার চাকরীর ক্ষতি হবে এমন কোন কাজ করিনা।
এ বিষয়ে কথা বলতে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী একরামুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.