|| ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
জনবান্ধব শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান এখন ফেরারী: বানোয়াট মামলায় সৎ আশরাফের নির্মম পরিণতি
প্রকাশের তারিখঃ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সিরাজুল ইসলাম কমলনগর প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর,,
কমলনগর মাইকহাতে সাইকেল চালিয়ে ভোটের প্রচারণা চালিয়েছিলেন এক যুবক। নাছিল কর্মী, না ছিল এজেন্ট। গ্রামেরনিরীহ মানুষ, কৃষক,শ্রমিক ও জেলেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণাকরেছিলেন তার হয়ে। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হন এএনএম আশরাফউদ্দিন।নির্বাচিতহওয়ার পরই পাল্টে দেন প্রচলিত ধারণা। তিনি হয়ে ওঠেন “জনবান্ধবচেয়ারম্যান”। হাতেসবসময় একটি ব্যাগ, ইউনিয়ন পরিষদের সিল ও প্যাড নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায়সেবা পৌঁছে দিতেন। রাস্তাঘাট,হাটবাজার যেখানেই মানুষ তাকে পেয়েছে, সেখানেইতাদের কাজ হয়েছে। সততা আর নিষ্ঠায় অল্প দিনের মধ্যেই তার কাজের প্রশংসাছড়িয়ে পড়ে পুরো উপজেলায়। ২০১৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিতহন তিনি। সরাসরি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও বিএনপিরপ্রতি তার সমর্থন ছিল। কিন্তু জনপ্রিয়তা এবং বিএনপির প্রতিদুর্বলতাই তার জীবনের কাল হলো। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকপ্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রে দুদকের দায়ের করা এক মামলার আসামি হয়ে পড়েন তিনি। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ঘর-বাড়ি ছেড়ে প্রায় এক দশক ধরে ফেরারীজীবন কাটাচ্ছেন সাবেক এ চেয়ারম্যান। দুদকের মামলাটি চলছে নোয়াখালী জেলাজজ আদালতে। এমন আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন চর ফলকন গ্রামেরবৃদ্ধ আবদুস শহিদ। তিনি আরো বলেন, তারএকমাত্র ছেলে আশ্রয় নিয়েছে নানার বাড়ি;সংসারের অভাব সইতে না পেরে স্ত্রীও তাকেছেড়ে চলে গেছেন। বাবা-মা ছেলের দুশ্চিন্তায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। দীর্ঘবহুদিন যাবত সেই চেয়ারম্যানকে এলাকায় দেখিনা। শুনেছিচেয়ারম্যান বহু কষ্টে আছেন। ভালো মানুষের কোন মূল্য নেই। এরপরশহিদের দীর্ঘ আক্ষেপ …..। বৃদ্ধ আবদুস শহিদের বর্ণনার এএনএম আশরাফ উদ্দিন ২০১১থেকে ২০১৬ সময় পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদেদায়িত্বরত ছিলেন। সততা আর দক্ষতার জন্য তিনি লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপিসুপরিচিত ছিলেন। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক ইউছুপ আলী মিঠু জানান, পল্লীচিকিৎসকও সাংবাদিকতা ছিল এএনএম আশরাফ উদ্দিনের প্রধান পেশা। পাশাপাশিমেঘনা নদীর ভাঙন রোধে ছিলেন সক্রিয় কর্মী। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার প্রধানের হাত থেকেচ্যানেল আই কৃষি সাংবাদিকতার পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সাধারণমানুষ ভালোবেসে ডাকতো “গরিবের বন্ধু”।আশরাফবলেন, জীবনে কঠিন বিপদে পড়ে বহু কষ্টে একটি এনজিওতে সামান্যবেতনে কাজ করি বরগুনা জেলায়। মামলার হাজিরা দিতে বরগুনা থেকে নোয়াখালী আসা-যাওয়াকরতে হয় ১০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে;খরচ হয় ১০-১৫হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৪৪ বার হাজিরা দিয়েছি।নোয়াখালীজজ আদালতের সামনে কথা হয় এ সাবেক চেয়ারম্যানের সাথে । মামলারপেছনের ঘটনা বলতে গিয়ে তার চোখে পানি আসে। তিনিবলেন, আমার নিজ এলাকার মেঘনা ভাঙন রক্ষায় স্থানীয়দের আশ্বাসেনিজে জামিনদার হয়ে জিও ব্যাগ ফেলি নদীতে। কিন্তু জোয়ারের তীব্রতায় ৩ মাসের মধ্যে বাঁধ নদীতেভেঙ্গে পড়ায় স্থানীয়দের প্রতিশ্রুত অর্থের বড় অংশ আর পাইনি। এতেবিপুল ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ি। এরমাঝে স্থানীয়দের অনুরোধে ইউপি চেয়ারম্যান পদে ভোটকরে বিপুল ভোটে জয়লাভ করি। চেয়ারম্যানথাকাকালীন ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ৫নং চর ফলকন ইউনিয়নের ৬৩০ জন জেলেরমাঝে ৩০ কেজি হারে ৪ মাসের ৭৫.৬ মে.টন ভিজিএফ বরাদ্দ পাই। তৎকালীন সময়ে আওয়ামীলীগ, সংসদসদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, ২জন ভাইস চেয়ারম্যান, ৯জন ইউপি সদস্য, ৩জন নারী সদস্য এবং ২টা জেলে সমিতিসহ মোট ৮টি গ্রুপ জেলেদের তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানেরনিকট জমা দেয়। ভিন্ন ভিন্ন তালিকার কারণে প্রাথমিক তালিকায় কয়েকজনজেলের নাম দ্বৈতভাবে ওঠে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একটি সভায়তালিকা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত তালিকা ধরে ৬৩০ জন জেলের মাঝে ৭৫.৬টন চাল যথাযথভাবে বিতরণ হয়।তবুওআমার জনপ্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমার পরিষদের ইব্রাহীম খলিলনামের একজন সদস্য চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে মর্মে অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ায়। এএকটি ঘটনায় স্থানীয় থানার ওসি, সাবেকউপজেলা নির্বাহী অফিসার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা, এনএসআই, স্থানীয়সরকার সচিব ও দুদকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পরপর ২৬টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। একজনইউপি সদস্যের ২৬টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, কমলনগরথানার ওসি এবং উপজেলা প্রকৌশলীর নেতৃত্বে ১২টি তদন্ত সম্পন্ন হয়। কোনতদন্তে্ই ভিজিএফ চাউল আত্নসাত হয়েছে মর্মে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। সকলতদন্তে আমাকে নিরপরাধবলা হয়েছিল। আশরাফআরো বলেন, স্থানীয় ১২টিতদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত সেই ইউপি সদস্য ২০১৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে আরো একটি অভিযোগদায়ের করেন। দুদক তার ২য় অভিযোগটির অনুসন্ধান করে। সাবেকচেয়ারম্যান আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা আমার নিকট ১৩ লাখটাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে না পারায় ওই কর্মকর্তা ৪ বছর পর ২০১৫ সালের২৮ ডিসেম্বর তারিখে আমার বিরুদ্ধে কমলনগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলারতদন্তকারী কর্মকর্তাও তার নিকট ঘুষ দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ আশরাফের। নিম্নআদালতে জামিন অযোগ্য হওয়ায় দুদকের মামলা দায়েরের ৪ মাস পর আমি নিরবেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনেচলে যাই।। শুরু হয় আমার ফেরারী জীবন।আশরাফউদ্দিনের ভাষায়, “একজন নিরীহ মানুষের যার দল নেই, টাকানেই, পেশীশক্তি নেই; আছেশুধু জনগণের আস্থা তার জনপ্রতিনিধি হওয়া যেন আত্মঘাতি।” আমারসংসার, পরিবার পরিজন সব শেষ হয়ে গেছে। আমিবহুদিন না খেয়ে থেকেছি। মাইলের পর মাইল হেঁটে খেয়ে না খেয়ে চাকরি খুঁজেছি। ছোটএনজিওর বেতন মামলার খরচেই শেষ হয়ে যায়। সন্তান পড়াশোনা করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞডাক্তারের ঔষধ খেয়েও এখনঘুম আসে না।স্থানীয়কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মেঘনার ভাঙনরোধে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আশরাফেরভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু দুষ্ট মানুষের রোষানলে পড়ে একজন সৎ মানুষেরজীবন আজ তছনছ।চরফলকনের বৃদ্ধ মালেক মাঝি বলেন, “একটি মিথ্যা বিষয় অসংখ্য অফিসে ঘুরলে তা সত্যের মত
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.