|| ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
বাউফলসহ তিন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব ( অ:দা;) মাহামুদুল হাসান ও স্টাপ সাইদুর রহমান’র দূর্নীতি শীর্ষে
প্রকাশের তারিখঃ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সুভাস দাস,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।
পটুয়াখালী জেলার বাউফলসহ তিন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব ( অ:দা;) মাহামুদুল হাসান ও স্টাপ সাইদুর রহমান'র দূর্নীতি শীর্ষে
মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গলাচিপা উপজেলা। তিনি একই পদে ( অ:দা:) দশমিনা ও বাউফল উপজেলায় পালন করছেন। সে বাউফল উপজেলার ( অ:দা:) দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এ উপজেলার সাবেক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গনের বিভিন্ন সময়ে করা অনিয়ম -র্দূর্নীতি কে ছাড়িয়ে গেছেন বলে সুত্রে জানা যায়। মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার বাউফল পৌর সভায় ওএমএস ডিলার নিয়োগের অনুকূলে ৬ জন ওএমএস ডিলার পদে ৪১ জন আবেদনকারীর কাছ থেকে তাঁর দেয়া নম্বরে অফেরতযোগ্য ৫০০ শত করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে অনিয়ম -দূর্নীতির যাত্রা শুরু করেন বলে সুত্রে জানা যায়। তাঁর পর বিগতদিনে অভিযোগ উঠা বগা গোডাউনের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী সুন্দর রেজাউল কে দিয়ে তিনি বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন। বাউফলের ৬ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগের লটারিতে মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার জনৈক এক মোটর সাইকেল চালক কে গলাচিপা খাদ্য অফিসের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তিনি তাকে দিয়ে হাতের কারিশমায় গোঁজামিল করিয়ে তাঁর পছন্দের ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেয় বলে সুত্রে জানা যায়। পরে এ নিয়োগ কৃত ডিলারদের কাছ থেকে তিনি বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে সুত্রে জানা যায়। এরপর তিনি ওএমএস ডিলার নিয়োগের অনুকূলে প্রত্যেক ডিলারদের কাছ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা জামানত রাস্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখার নিয়ম কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন বলে সুত্রে জানা যায়।যার ফলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে দু'জন নতুন ওএমএস ডিলার এর কাছ থেকে এখনও জামানত গ্রহণ করেন নি তিনি। জামানত গ্রহণ না করা ডিলার হলেন -মোঃ রুবেল ( বকুল তলা পয়েন্ট) ও সাবেক ডিলার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জনৈক এক ব্যক্তি। গুনজন উঠেছে এ দু'জন ডিলার এর কাছ থেকে মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এ বিষয় তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না বলে সুত্রে জানা যায়। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বিগত সরকার পরিবর্তনের পর পুরাতন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার বাদ দিয়ে নতুন ডিলার নিয়োগের আদেশ জারি করেন বর্তমান সরকার।
তারপর দূর্নীতিতে সিদ্ধ হস্ত তৎকালীন বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ৪১ জন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার এর অনুকূলে পুরাতন ১৯ জন ডিলার রেখে মৌখিক ৩ মাসের জন্য ২২জন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার নিয়োগ করেন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে। এরপর পুনঃরায় ৪১ জন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার নিয়োগ এর পদক্ষেপ সাবেক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিলে মৌখিক ৩ মাসের জন্য ডিলার নিয়োগ পাওয়া ডিলারগন বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
পরে মামলায় অন্তর্ভুক্ত ডিলারগনকে বহাল রাখা হয়।এরপর সাবেক বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অন্য উপজেলায় বদলী হয়। এদিকে বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শুন্য পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পান বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের সন্তান মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার।
তিনি বাউফলে দায়িত্ব পালনের পরে জুন মাসে পুরাতন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ১৯ জন ডিলার এর ফুড গ্রেন লাইসেন্স তাদের অনুরোধের পরেও নবায়ন করেন নি।
পরে তাঁরা বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। তারপরেও মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার আগস্ট মাসে উক্ত ১৯ জনের ডিলার এর নামে চালান জমা দিয়ে টন প্রতি ২ হাজার করে টাকা নিয়ে জনৈক একজন কে ১৯ জনের আগস্ট মাসের চাল দেয় বলে সুত্রে জানা যায়। এর পর উক্ত ব্যক্তি তাঁর মনোনীত ডিলার ও ডিলার ব্যতিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা টন প্রতি নিয়ে তাদের দিয়ে উপকারভুগীর মাঝে এ মাসের চাল বিতরণ করান বলে সুত্রে জানা যায়। এরপর উক্ত ডিলার ও ডিলার ব্যতিত লোকজন আগস্ট মাসের চাল জনপ্রতি ৩০কেজির স্হলে ২৫ কেজি করে বিতরণ করে বলে সুত্রে জানা যায়।
বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে ২০১৭ সাল থেকে দরিদ্র আসাদুজ্জামান রনি সওদাগর নামে এক লোক খন্ডকালীন ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মোঃ মাহামুদুল হাসান বাউফলের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে দায়িত্ব পালন করার কয়দিন পর কোনও কারন ছাড়াই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে না জানিয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নিয়ে উক্ত সুন্দর রেজাউল এর এক আত্নীয় সিয়াম নামের ব্যক্তি কে চাকুরী দিয়েছেন বলে সুত্রে জানা যায়। বর্তমানে দরিদ্র আসাদুজ্জামান রনি সওদাগর চাকুরী হারিয়ে খেয়ে না খেয়ে পথে পথে ঘুরে অসুস্থ হয়ে পড়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা বলে সুত্রে জানা যায়। এদিকে এ রেজাউল বির্তকিক কর্মকাণ্ডের জন্য সে নানা পত্রিকায় সংবাদের শিরোনাম হয়। পরে তাকে সংযুক্তি অবমুক্ত করে বগা গোডাউনে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর ও রাতে রেজাউল বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিস দায়িত্ব পালন করেন বলে সুত্রে জানা যায়।
তারপর মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার তাদের পছন্দের লোক কালাইয়া গোডাউনের চতুর্থ শ্রেনীর স্টাফ মোঃ সাইদুর রহমান কে বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিস নিয়ন্ত্রনের জন্য সংযুক্তিতে আনেন বলে সুত্রে জানা যায়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে পুরাতন ১৯ জন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলারদের নামে চালান কেটে মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অন্য ডিলার দিয়ে চাল বিতরণ করাচ্ছেন বলে সুত্রে জানা যায়। আবার পুরাতন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর দু'একজন ডিলারের নামে চালান কাটার পরে তারা জেলহাজতে যায়। তবুও তাদের নামের বরাদ্দের চাল তাদের নামেই অন্যলোক দিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে বলে সুত্রে জানা যায়। এদিকে এখনো আওয়ামী লীগের লোক সাবু ডিলার ( বগা ইউনিয়নের বালিয়া পয়েন্ট) তাঁর নামে দু'জনের চালান কেটে তাকে সেপ্টেম্বর মাসের চাল দেয়া হয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়।
এদিকে কালাইয়া গোডাউনের চতুর্থ শ্রেনীর স্টাফ মোঃ সাইদুর রহমান বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিসে বসেই মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার এর নির্দেশে ডিডিও প্রতি ডিলারদের কাছ থেকে ১২৫০ টাকা করে নিয়মবহির্ভূত হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে সুত্রে জানা যায়। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায় মোঃ মাহামুদুল হাসান সিকদার ও মোঃ সাইদুর রহমান এর মৌখিক নির্দেশে বন্ধের দিন ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার সূর্যমনি ইউনিয়নে এ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ বসার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল ডিলার না হয়েও বিতরন করেন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.