|| ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
মিরাট ইউনিয়ন দীর্ঘ ১ যুগ পরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ৪ কি.মি. মাটির রাস্তা আজও অচল অবস্থা
প্রকাশের তারিখঃ ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল মিরাট ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের বিল মুনসুরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা হরিশপুর-মিরাট-নয়াহরিশপুর রাস্তাটি আজও অবহেলিত। জামালগঞ্জ বাজার থেকে শৈলগাছী পর্যন্ত প্রায় ৬কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে হরিশপুর-মিরাট-নয়াহরিশপুর ৪কিলোমিটার রাস্তা মাটির। যুগের পর যুগ এলাকার মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটির এই রাস্তাটি।
বছরের পর বছর সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরণা দিলেও আজও কেউ রাস্তাটি পাকাকরণ করে দেয়নি। বাধ্য হয়ে ৪ কিলোমিটার মাটির রাস্তাটি পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসি।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার মিরাট ইউনিয়নবাসির আয়োজনে ওই রাস্তার বিল মুনসুর এলাকায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে এলাকার সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক, ভ্যান চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার শত শত মানুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রাসেল সরকার, মিরাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মিরাট ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিনুর ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য টিপু সুলতান, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাহার আলী, মিরাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দীন, মিরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম মানিক প্রমুখ।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার জামালগঞ্জ বাজার থেকে মিরাটের বিল মুনসুরের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে পার্শ্ববতী সদর উপজেলার শৈলগাছী পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা। রাস্তাটির কিছু অংশ পাকা আবার কিছু অংশ ইট বিছানো। এর মধ্যে হরিশপুর-মিরাট ও নয়াহরিশপুর ৪ কিলোমিটার রাস্তা মাটির কাচা। শুষ্ক মৌসুমে রাস্তা দিয়ে চলাচলা করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তায় পানি ও কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় কাচা মাটির রাস্তা দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার কয়েকটি গ্রামের কৃষক, ভ্যানচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষের। প্রতিদিন এলাকার হাজারো মানুষ এই রাস্তা দিয়ে রাণীনগর উপজেলা, নওগাঁ, রাজশাহীর বাগমারাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে।
মানববন্ধনে রাসেল সরকার বলেন, এই মাটির রাস্তাটি এলাকার মানুষের গলার কাঁটা। হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকে। তবুও যুগের পর যুগ ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি আজও অবহেলিত। শুষ্ক মৌসুমে চলাচলা করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় পানি ও কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। এতে রাস্তা দিয়ে আর চলাচল করা যায় না। বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি বলেন, জরুরী রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যবরণ করতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের ভালো স্থান থেকে বিয়ের সম্পর্ক আসে না, শুধুমাত্র এই খারাপ রাস্তার কারণে। এই রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে রাণীনগর উপজেলা যেতে দুরত্ব কমবে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা। আবার নওগাঁ যেতে কমবে প্রায় ২০ কিলোমিটর রাস্তা। আমরা এলাকার লোকজন সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরণা দিলেও আজও কেউ রাস্তাটি পাকাকরণ করে দেয়নি। অবিলম্বে এই ৪ কিলোমিটার মাটির রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানান এলাকাবাসি।
রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ওই রাস্তার যতটুকু পাকা আছে সেটুকু সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছে। আর মাটির যে রাস্তা আছে সেটা পাকাকরণের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজপত্র প্রেরণ করেছি। অনুমোদন হলে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।
নওগঁ#
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.