|| ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
সাপাহার থানার ওসি আব্দুল আজিজ বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক
প্রকাশের তারিখঃ ১০ জুলাই, ২০২৫
রতন মালাকার, সাপাহার (নওগাঁ)।
নওগাঁর সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ‘মামলা বাণিজ্য’-এর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ওসি আজিজের নেতৃত্বে এসআই মিলন কুমার, এসআই মামুন ও এএসআই মো. রেজওয়ান মীরের একটি চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলার ৫নং পাতাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব কলমুডাঙ্গা (সাঁওতাল পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ (৩২)-কে মাদকের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী বলছে, মামুন একজন সদালাপী, নম্র ভদ্র ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি ব্যাক্তি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ চরম অন্যায় করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামুনের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল আলম মৌলভী নামের একজনের। অভিযোগ রয়েছে, আলম মৌলভীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে পুলিশ মামুনকে ফাঁসিয়েছে।
ভুক্তভোগী মামুনের বাবা তাইজুল ইসলাম তাজেল বলেন, “দু-তিন মাস আগে রাত ১২টার দিকে এএসআই রেজওয়ান কিছু পুলিশ নিয়ে হঠাৎ আমাদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কারণ জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং হুমকি দেয়—‘চুপ থাক, না হলে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিব।’ গত ৪ তারিখ রাত ২টার দিকে মামুনকে ধরে নিয়ে যায় তারা।”
মামুনের স্ত্রী শামসুন্নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী নিরপরাধ। তাকে চোখের সামনে মারধর করে নিয়ে গেছে। আমি আমি ওসি আজিজ ও এএসআই রেজোয়ানের বিচার চাই।”
কলমুডাঙ্গা মানব কল্যান সমিতি'র সভাপতি জিয়াউর রহমান মাস্টার বলেন,“আমাদের সংগঠনের ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাদকবিরোধী কাজ করছেন। মামুন একজন সৎ ও ভদ্র ছেলে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।”
৫নং পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, “এটা শতভাগ মিথ্যা মামলা। মামুন এমনকি পানও খায় না।”
স্থানীয় মসজিদের খতিব মাওলানা রমজান আলী জানান, “মামুন নিয়মিত মসজিদে আসে। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে—এটা জুলুম। আল্লাহ এর বিচার করবেন।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কলমু ডাংগা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাহ্হার বলেন, “এমন একজন নিরাপরাধ যুবকের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দায়ের করে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে—এতে আমরা সবাই হতাশ। দোষীদের শাস্তি চাই।”
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান বলেন, “এই ঘটনায় মানুষের আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে। জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।"
মামলার ১নং সাক্ষী আব্দুল খালেক বলেন, “আমি রাত ১টার দিকে জমিতে পানি দিচ্ছিলাম। পুলিশ ডেকে বললো, সই কর, নওগাঁতে গিয়ে ভালো খাওয়াবে। মামুনের নামে মামলা জানলে কখনো সই দিতাম না।"
২নং সাক্ষী রাকিব বলেন, “পুলিশ সই না করলে আমার নামে মাদকের মামলা দেবে বলে ভয় দেখায়। বাধ্য হয়ে সই দিই। মামুন আসলে খুব ভালো মানুষ।”
এই বিষয়ে ওসি আব্দুল আজিজকে একাধিকবার ফোন করে মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.