|| ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
রাজারহাটে মন্দিরে মামলার অভিযোগে আটক এক
প্রকাশের তারিখঃ ১০ অক্টোবর, ২০২৪
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মন্দিরে হামলার অভিযোগে এক কিশোর কে পুলিশে সোপর্দ করেন মন্দির কমিটি।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম দেবোত্তর সর্বজনীন দূর্গা মন্দিরে। সাংবাদিকের সরেজমিমে অনুসন্ধানে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা

জানান গত ৯ই অক্টোবর বুধবার রাত ১১ঃ৩০ঘটিকার দিকে পশ্চিম দেবোত্তর সর্বজনীন দূর্গা মন্দিরে পুজা দেখতে যান পাশ্ববর্তী ৭নং ওয়ার্ডের চেতনা মৌজার ৬ বন্ধু নুরজামাল (১৭)পিতা ওকিতুল্যা,রিয়াদ (১৬)পিতা বাবুল মিয়া,রমজান (১৪)পিতা এমদাদুল ইসলাম,আপন (১৪)পিতা মোস্তাফিজার রহমান,শাওন(১৮)পিতা আমিনুর ইসলাম এবং শামীম(১৭)পিতা মৃত আকতার হোসেন সকলের বাড়ী চেতনা মৌজায়। ঘটনার রাতে ৬ বন্ধু মিলে বিভিন্ন পূজা মন্ডবে ঘুরে পশ্চিম দেবোত্তর দূর্গা মন্দিরে যাওয়ার পথে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন হায়দার আলীর লেবুর বাগান থেকে ৬ বন্ধু লেবু ছেড়ে হাতে নিয়ে মন্দিরের দিকে যান। ওই সময়ে মন্দিরে নিরাপত্তাকর্মী আনসার সদস্য সহ পূজা মন্ডবে আসা সনাতনী ধর্মালম্বীর অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মন্দিরে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি তে ছয়বন্ধু মন্দিরের পিছনের রাস্তায় গিয়ে পরস্পরের মধ্যে দুষ্টামি শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা লেবু দিয়ে একজন আরেকজন কে ঢিল ছুড়েন। তাদের একজনের ঢিল মন্দিরের পিছনের টিনসীটের ব্যারাতে গিয়ে লাগে,লেবুর আঘাতে ব্যারার নিচের অংশ হালকা ফেটে যায়। লেবুর আঘাতের শব্দে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য রবিউল ইসলাম,সাগর চন্দ্র রায় এবং শাহ আলম সঙ্গে সঙ্গে ছয় বন্ধুর কাছে গেলে ৫জন দ্রুত পালিয়ে যান।নুরজামাল কে আনসার সদস্য ও পূজাকমিটির লোকজন আটক করে। নুরজামাল কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে রাতেই রাজারহাট থানা পুলিশকে সোপর্দ করেন মন্দির কমিটির সদস্যরা। পরে রাতেই রাজারহাট থানায় ৬জনের নামে মন্দিরে হামলার অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতেই রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা বেগম ও সেনাবাহিনীর টহল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এবিষয়ে মন্দির কমিটির সদস্য মৃণাল কান্তি বলেন এই ঘটনা কোন পূর্ব পরিকল্পিত ছিলো না,নিছক দুষ্টমির ছলে হয়েছে।ছেলেগুলোর রাজনৈতিক কোন সংশ্লিষ্টতাও নেই।
মন্দির কমিটির সভাপতি তপন কুমার বলেন তারা এই হামলা কি কারণে করেছেন তা তিনি নিশ্চিত বলতে পারছেন না।দুষ্টামির ছলে করেছেন না অন্য কোন কারণে করেছেন তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও এর আগে এধরণের ঘটনা ঘটেনি।
তবে একাধিক গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেসা করে তাদের কোন রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
রাজারহাট থানার নবনিয়োযুক্ত অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম সাংবাদিক কে জানান বিষয় টা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে,প্রকৃত ঘটনা কি তা তদন্তের পরে জানা যাবে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.