|| ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
ফুলগাজীতে দুই স্থানে নদী ভাঙ্গনের কারনে চার গ্রাম পানি বন্দি
প্রকাশের তারিখঃ ৮ আগস্ট, ২০২৩
ফেনীর ফুলগাজীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টি বর্ষণের ফলে মুহুরি নদীর দুই স্থানে ভাঙ্গন।
সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে চারটার সময়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বর্ষণের কারনে, ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর ও উত্তর বরইয়া এলাকায় মুহুরি নদীর দুই স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্ট হয়। এতে উত্তর বরইয়া, বিজয়পুর, উত্তর দৌলতপুর ও কহুয়া এলাকার প্রায় ৫শত পরিবার পানি বন্দি। এছড়াও ফুলগাজী বাজারে পানি প্রবেশ করে প্রায় শতাধিক, মুদি দোকান, ওষুধ দোকান ও সবজি বাজার সহ পনির নিচে।
দৌলত পুর এলাকার মোঃ জামাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত চার পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে, মহুরি নদীর দুই পাশে দুই টি ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়, এতে করে অনেক পুকুর পানির নিচে ডুবিয়ে গেছে, নষ্ট হয়েছে কৃষি জমি, আনুমানিক ৫ শত পরিবার পানি বন্দি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারনে প্রতি বছর আমাদের এই দুঃখ দুর্দশা লেগেই থাকে। তারা বর্ষার সময় বাঁধ ভাঙ্গলে দৌড়ে আসে, কিন্তু এর পর আর আসে না। আমরা চাই টেকসই উন্নত বাঁধ ত্রান না।
এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ প্রকৌশলী মোঃ আরিফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত কিছু দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারনে মুহুরি নদীর দুই স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার ২৫০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বিএডিসি সেচ পাম্পের পাইপ দিয়ে পানি বের হয়ে এই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। পানি নামার সাথে সাথে ভাঙ্গন দুটো মেরামত করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৩০০ হেক্টর আমন ধান পানির নিচে নিমজ্জিত। যদি পানি নেমে যায় দুই একদিনের মধ্যে তাহলে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না।
ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মহুরি নদীর দুইপাশে উত্তর বরইয়া এবং উত্তর দৌলত এই দুই স্থানে ভাঙ্গনের ফলে প্রায় চার থেকে পাঁচশত পরিবার পানি বন্ধী রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শন করেছি, আমাদের ফেনীর জেলা প্রশাসক এসেছিলেন, তাদের জন্য শুকনা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাওয়ার দেওয়া হবে। এছাড়াও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার জন্য আশ্বাস প্রদান করেছেন। আমরা সার্বক্ষণিক তদারকিতে রেখেছি।
ফেনী জেলা প্রশাসক শাহীনা আক্তার জানান, গেল কয়দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে, ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দৌলতপুর ও বরইয়া গ্রামের নদীর বাঁধ ভাঙ্গনের ফলে অনেক গ্রাম প্লাবিত। প্রায় ৫ শত পরিবার পানি বন্ধী রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা তাদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছি। দুই লক্ষ টাকা ও ৩ টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ফেনী জেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে ।
পানি শুকানোর সাথে সাথে বাঁধ মেরামত করা হবে। কোন মানুষ যদি পানির কারনে ঘরে থাকতে অসুবিধা হয় তাহলে আমরা তাদেরকে সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলো সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। এবং উপস্থিত বন্যাত্বদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেন জেলা প্রশাসক।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.