|| ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২২শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ।-DBO-news
প্রকাশের তারিখঃ ৬ জুন, ২০২৩
হবিগঞ্জ: গত ০৫/০৬/২০২৩ রোজ সোমবার শায়েস্তাগঞ্জ- হবিগঞ্জ হাইওয়েতে উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে পরিবেশ আন্দোলন কর্মীরা এবং হবিগঞ্জের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে। আন্দোলনকারীরা কাটা গাছগুলোতে কাফন পেঁচিয়ে রাস্তায় ফেলে রতনপুর এলাকায় অবরোধ করে। সেখানের গাছ কাটা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক বন্ধ রাখে। পরে মহাসড়কের জগৎপুর এলাকা আরেক দফা অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা।
শুরুতে "গাছ কাটা নিষেধ, আদেশক্রমে : হবিগঞ্জবাসী " ব্যানারে সকাল ৯.০০ ঘটিকায় হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র্যালি নিয়ে কোর্ট মসজিদ চত্ত্বরে গিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি করে আন্দোলনকারীরা।
ইমদাদ মোহাম্মদ, ছাত্র ইউনিয়ন, হবিগঞ্জ জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনের আহ্বায়ক ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা এক্টিভিস্টও উন্নয়ন কর্মী মাহমুদা খাঁ।
এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ আন্দোলন বাপার হবিগঞ্জ প্রতিনিধি তোফাজ্জল সোহেল। হবিগঞ্জের বিশিষ্ট কবি তাহমিনা বেগম গিনি, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন। শ্রমিক নেতা হবিগঞ্জ বাসদ (মার্ক্সবাদী ) সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়ন হবিগঞ্জ জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি প্রণব কুমার দেব, হবিগঞ্জ মিউজিক্যাল ব্যান্ড কমিউনিটি'র (HMBC) সভাপতি তাহসিমুল হাসান তানিম, ছাত্র ইউনিয়ন হবিগঞ্জ জেলার সহকারী সাধারণ সম্পাদক আনাস মোহাম্মদ, মুক্তাঞ্চল হবিগঞ্জের সদস্য অদ্বিতীয়া ধর পদ্য, বৃন্দা পন্থ দাশসহ প্রমুখ। মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী সানজানা শিরিন, ছাত্র ইউনিয়ন হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক নিপু ভৌমিক, ছাত্র আন্দোলন কর্মী প্রীতিকনা, শাওন দাস, শতরুপা গোপ, স্বর্ণশ্রী রায় চৌধুরী, স্নেহা বৈরাগী, দিব্যেন্দু পাল উৎস, দেবজিৎ বিশ্বাস, অনন্য মাহদীসহ প্রমুখ।
পরিবেশ আন্দোলন বাপার হবিগঞ্জ প্রতিনিধি -তোফাজ্জল সোহেল সংহতি বক্তব্যে বলেন, ক্রমাগতভাবে তাপমাত্রা যখন বাড়ছে, বেশি বেশি করে গাছ লাগানোর কথা যখন বলা হচ্ছে ঠিক সেই সময় বন বিভাগ গাছগুলো না কেটে বিকল্প কোনো চিন্তা করা উচিত ছিলো।
ছাত্র নেতা প্রণব বলেন -এক দিকে সরকার বলছেন গাছ লাগান আর অন্যদিকে সরকারের লোকজন নির্বিচারে একের পর এক গাছ কেটেই যাচ্ছে। হবিগঞ্জের সবুজ অরণ্যের শহর এক সময়ে ছিল কিন্তু সেটা বিগত কয়েক বছরে মরুভূমিতে রুপান্তর করা হয়েছে একের পর এক গাছ কেটে তেমনি সেভাবেই চলছে শহরের আশেপাশের রাস্তার গাছ কাটার মহাউৎসব।
শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মী অদ্বিতীয়া ধর পদ্য বলেন, যেভাবে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরা মনের তাগিদেই রাস্তায় দাঁড়িয়েছি আমাদের আহ্বান অন্যরাও এগিয়ে আসবেন গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে।
সামাজিক সংগঠন মুক্তাঞ্চলের কর্মী ও শিক্ষার্থী বৃন্দা পন্থ দাশ বলেন - ফেসবুক কিংবা অন্যান্য স্যোশাল মিডিয়া পোস্ট দিয়ে দায় সাড়লেই কেবল হবেনা সচেতন মানুষ হিসেবে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে দ্রুতই এই গাছ কাটার মিশন বন্ধ করাতে হবে।
আন্দোলন কর্মীরা আরও বলেন, একদিকে পরিবেশ দিবসের জমজমাট আয়োজন, অন্যদিকে গাছ কেটে উজার। গত দুই সপ্তাহ ধরে হবিগঞ্জ- শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের হাজার হাজার গাছ কেটে উজার করে ফেলা হয়েছে। গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংসের দায়িত্ব নিয়েছে হবিগঞ্জের প্রশাসন। নির্বিচারে গাছ কেটে পরিবেশকে ফেলে দিচ্ছে হুমকির মুখে। প্রচন্ড তাপদাহে ও বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে মুক্তি দিতে পারে যে গাছ সেই গাছ কে হত্যা করে উন্নয়ন নামক মুলা ঝুলিয়ে রেখেছে প্রশাসন। অন্যদিকে আজকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিবেশ দিবস ঢাক ঢোল পিটিয়ে উৎযাপন করে যা পুরোটাই সাংঘর্ষিক।
সমাপনী বক্তব্য এক্টিভিষ্ট ও উন্নয়ন কর্মী মাহমুদা খাঁ বলেন - এই উষ্ণায়নের সময়ে যখন গাছ রক্ষার জন্য আমরা আন্দোলন করছি তখন বন বিভাগ এভাবে গাছ কেটে ফেলে পরিবেশের সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধনের মিশনে নেমেছে । তিনি আরও বলেন এই রাস্তার গাছগুলোর সাথে যেমন আমাদের আবেগ অনুভূতি জড়িত তেমনি এই রাস্তার সৌন্দর্য নষ্ট করছে কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে গাছ কেটে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল মানুষ হচ্ছেনা সেই সাথে আশ্রয়হীন হচ্ছে পশু-পাখিও। তিনি বক্তব্য বলেন মাত্র ৩০ লাখ টাকার টেন্ডার দিয়ে নির্বিচারে প্রায় ২০০০ হাজারের মতো গাছ কেটে অক্সিজেন ভান্ডার ধ্বংস মানে হচ্ছে মানুষের নি:শাস নেয়াকে গলা টিপে হত্যা করা।
উল্লেখ্য উক্ত অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন ঐসব এলাকার শ্রমিক,মেহনতী ও সাধারণ মানুষ।সারাদিনব্যাপী চলমান এই আন্দোলন থেকে আন্দোলনকারীরা আল্টিমেটাম দেন অনতিবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব না নিলে কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
তথ্যসূত্র: ইমদাদ মোহাম্মদ
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.