|| ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৪ঠা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
চাঁদপুরবাসীর কল্যাণে ১শ’কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে জেলা পরিষদ-দৈনিক বাংলার অধিকার
প্রকাশের তারিখঃ ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
বঙ্গবন্ধু কন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে একজন দক্ষ ও পরিশ্রমী জনপ্রতিনিধি হিসেবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছরে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী। তাঁর দায়িত্বশীল ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জেলা পরিষদ এখন এই জেলার গণমানুষের আস্থার অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিনত হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি চাঁদপুর জেলা পরিষদ কর্তৃক জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান- বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান জানানো, গরীব অসহায়দের সাবলম্বি করা, গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়া, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং করোনাকালীন সময়ে ১ লাখ উন্নত মানের মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ বিগত পরিষদকে ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। এছাড়াও জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে জেলার প্রথম ‘বঙ্গবন্ধুর মূঁর্যাল’ নির্মাণ, চাঁদপুর শহরের প্রবেশদ্বারে দৃষ্টিনন্দন ‘বঙ্গবন্ধু গেইট নির্মাণ, জেলা পরিষদ স্টাফ কোয়াটার নির্মাণ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন নির্মাণ, চাঁদপুর প্রেসকাব ভবন নির্মাণ এবং হাজীগঞ্জ সুপার মার্কেট নির্মাণ জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকা-ের অন্যতম সাফল্য।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের কারিগরি শাখা সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও সাবেক সফল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওসমান গণি পাটওয়ারীর নেতৃত্বে ২০০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছরে চাঁদপুরে জেলাবাসীর কল্যাণে অবকাঠামোসহ সর্বমোট ১০৩ কোটি ২৮ লক্ষ ২৭ হাজার ৫৫ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে এডিপি খাত থেকে বরাদ্দকৃত ৪০ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৯শ’ ৫৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দকৃত ৬২ কোটি ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৭শ’ ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছর পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৮টি শহীদ মিনার নির্মাণ, গরীব অসহায়দের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৮৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪০১টি রিক্সা/ ভ্যান বিতরণ, অসহায় নারীদের স্বাবলম্বি করতে ৩ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ২শ’ ১৭টি সেলাই মেশিন বিতরণ এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৮টি বসত ঘর এবং একই অর্থ বছরে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১টি বীরনিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০১৬-১৭ অর্থ বছর থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২২৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ১০ লক্ষ ৮১ হাজার টাকার অর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। ৫ হাজার ৫শ’ জন গরীব ও অসহায় শিক্ষার্থীকে প্রায় ১ কোটি টাকার শিক্ষা অনুদান এবং ১৬শ’ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ৩২ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়াও মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, মন্দির, শ্মশান, এতিমখানা, পাকা ঘাটলা নির্মাণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পাকা রাস্তা নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার, নলকূপ, শৌচাগার, শহীদ মিনার, যাত্রী ছাউনী, নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সংস্কার করেছে চাঁদপুর জেলা পরিষদ।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির আর্থিক সামাজিক ও জীবনযাত্রার ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে একটি উন্নত জীবনব্যবস্থা গড়ে তুলতে জেলা পরিষদ কাজ করে চলেছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জনপদে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অর্থায়ন করে থাকে জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের কাজই হলো গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। এর সাথে সম্পৃক্ত ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো মানোন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও উন্নয়নে কাজ করা।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পরিষদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি আন্তরিকতার সাথে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের বিগত পরিষদের দায়িত্বকালীন সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদ জেলাবাসীর কাছে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিগত দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও নির্দেশনার মাধ্যমে কাজ করে গেছি। নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ সময় পর্যন্ত আমি এবং আমার পরিষদ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ছিলাম, তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেয়ার চেষ্ঠা করেছি। সমগ্র জেলাব্যাপী মেধাবী অসহায় ও অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও নগদ অর্থ, চেক বিতরণ করেছি। জাতির পিতার আর্দশকে ছড়িয়ে দিতে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি বিতরণ করেছি। অসহায়, দুস্থ্য, রোগী, কর্মহীন, গরীব মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। পরিষদ থেকে পুরো জেলায় প্রায় সকল স্কুলে শহীদ মিনার নির্মান করেছি। জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়েও মসজিদ, মন্দির,উপাসনালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আমরা অনুদান দিয়েছি। সাধারণ মানুষকে শতভাগ সেবা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করেছি। চাঁদপুর জেলা পরিষদের এই সফল কর্মকা-ের সবচেয়ে বড় অংশীদার আমার পরিষদের সদস্য এবং কর্মকর্তাগণ। তাঁদের সহযোগিতার মনোভাব ছিলো বলে এবং তাদের কর্মদক্ষতার কারণেই আমরা সরকারের এতসব উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.