|| ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
লক্ষ্মীপুরে সচিবের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা-দৈনিক বাংলার অধিকার
প্রকাশের তারিখঃ ২৫ জুন, ২০২২
লক্ষ্মীপুরে একটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক রবিন হোসেন তাসকিনের বিরুদ্ধে তথ্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন ইউপি সচিব।
গত ১৫ জুন চট্রগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফিরোজ আলম। এতে বিবাদী করা হয় লক্ষ্মীপুর নিউজ ২৪ এর নির্বাহী সম্পাদক, এবং দৈনিক জাতীয় অগ্রসর পত্রিকার লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, সাংবাদিক মো. তাসকিন হোসেন রবিনকে। মামলায় ২০১৮ইং সালের ডিজিটাল নিরপত্তা আইনের ২৯ ধারা উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ টি Lakshmipur News 24. Net নামে একটি ফেজবুক পেইজে ইউপি সচিব ফিরোজ আলমের ঘুষ গ্রহনের ভিডিওচিত্র পোষ্ট করেন, এর সূত্র ধরে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ারা হোসাইন আকন্দ ইউপি সচিব ফিরোজকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। তার বিরুদ্ধে ভিডিও চিত্রে দেখানো ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত কাজ চলছে বলে জানান।।
সচিব ফিরোজ সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেন, তাসকিন আহমেদ রবিন Lakshmipur News 24. Net নামে একটি পেজবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে সচিব ভিজিএফের বস্তা বিক্রির টাকার লেনদেন ভিডিও বলে দাবী করেন।
অন্যদিকে জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে ভোক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ার হোসেন জানান,৩ মাস ইউনিয়ন পরিষদে ধন্য দিয়ে সচিবকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে জন্মনিবন্ধন নিতে হয়েছে, এতে ৫ শত টাকা কম দিলে সচিব দাবী করে এগুলো তিনি ভক্ষন করবে না উধ্বর্তন কর্মকর্তারা নিবেন। এভাবে এই সচিব আমার থেকে না অনেক মানুষ থেকে ৫,১০ হাজার টাকার দিয়ে জন্মনিবন্ধন সহ সরকারি সেবা প্রদান করে সরকারের মান ক্ষুন্ন করছে।
প্রবাসী ভোক্তভোগী আনোয়ার আরো জানান,যে সাজানো মামলাটি দিয়ে সাংবাদিক ভাইকে হয়রানি করছে, তা সম্পূর্ন মিথ্যা। আমি কোনো বস্তার ব্যবসায়ী না, আর বস্তা কিনতে গেলে মেম্বারের স্বাক্ষর, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর লাগবে কেন,তাছাড়া তিনি বলেছেন রাতে হোয়াসএপে পাঠিয়ে দিবেন, বস্তা কি হোয়াসএপে পাঠানো যায়।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সচিবের এ মামলার পর থেকে লক্ষ্মীপুর সাংবাদিক মহলের মধ্যে স্যোসাল মিডিয়ায় ব্যাপক তীব্রনিন্দা জানাতে দেখা গেছে।
মামলার বাদী সাংবাদিক রবিন বলেন,দূনীর্তি বিরুদ্ধে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করায় আইসিটি মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। সচিব তার দূর্নীতির চিত্র ঢাকতে সাজানো এই মামলা করেছে।
এদিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি ও দেশ রুপান্তরের জেলা প্রতিনিধি এমজে আলম মামলার বিষয়ে তীব্রনিন্দা জ্ঞাপন করে বলেন,সাংবাদিকরা সত্যের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায় মামলা দিয়ে দাবিয়ে রাখা যাবে না। অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
লক্ষ্মীপুর রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জহির উদ্দিন,ও সময় সংবাদ ও দৈনিক বাংলার অধিকার লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি সোহেল হোসেন ও লক্ষ্মীপুর নিউজের মামলার ঘটনার বিষয়ে তীব্রনিন্দা জানান,এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অন্যদিকে সচেতন মহল এ মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলছে তথ্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের জন্যে একটি হুমকি এবং কালো আইনে পরিনত হয়েছে, এই আইনে সঠিক তথ্য প্রমাণ দিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরে ও সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ আইন যদি এখনই বাতিল না করা হয় তাহলে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে পিছিয়ে পড়বে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.