|| ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
লক্ষ্মীপুরে মাতৃমঙ্গল প্রসূতিকে বের করে দিলেন আয়া, রাস্তায় প্রসব-দৈনিক বাংলার অধিকার
প্রকাশের তারিখঃ ২০ মে, ২০২২
লক্ষ্মীপুরে সিজারের জন্য মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃমঙ্গল) থেকে জোরপূর্বক শিল্পি আক্তার নামে এক রোগীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে হাসপাতালের সামনের রাস্তাতে স্বাভাবিক প্রসবে প্রসূতির ছেলে সন্তান জন্ম দেয়। বুধবার (১৮ মে) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সদর হাসপাতালের সামনে এই ঘটনা ঘটে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্বজনরাই সিজারের জন্য রোগীকে নিয়ে যায়।
শিল্পি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সমসেরাবাদের জোড়দিঘিরপাড় এলাকার ফল দোকানের শ্রমিক আজগর হোসেনের স্ত্রী। তারা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের তেরবেকি এলাকায় বাসা ভাড়া থাকেন।
প্রসূতির মা নুরজাহান বেগম জানান, প্রসব ব্যাথা উঠলে শিল্পিকে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। মাগরিবের নামাজের আগে তার ব্যাথা বেড়ে যায়। সেখানে থাকা দায়িত্বে থাকা স্টাফ রৌশন আরা ইফতার করতে যান। এসময় কর্তব্যরত আয়া শারমিন আক্তার স্বাভাবিক প্রসব হবে না বলে প্রসূতিকে বাইরে সদর হাসপাতাল কিংবা কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করতে চাপ দেয়। একপর্যায়ে প্রসূতিকে বের করে দেওয়া হয়। এতে বের হতেই রাস্তায় পড়ে যায় প্রসূতি। পরে রাস্তাতেই প্রকাশ্যে প্রসূতি শিশুর জন্ম দেয়।
মামাতো বোন রুনা আক্তার জানায়, ঘটনা শুনে আমি সেখানে যায়। বাচ্চা মাথা দেখা যাচ্চে বললেও আয়া শারমিন তাদের প্রতিষ্ঠানে আমার বোনকে রাখতে রাজি হয়নি। আয়া বারবারই বলছিলো বাইরে কোন হাসপাতালে নিয়ে সিজার করাতে। কিন্তু কোন হাসপাতাল নেওয়ার সুযোগ হয়নি। রাস্তাতে আমার বোন সন্তানের জন্ম দেয়। নবজাতকের অবস্থা ভালো নয়। মা ও নবজাতক এখন সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে জেলা পরিবার ও পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন জানান, ঘটনাটি শুনে তিনি এসে নার্স, আয়া ও অন্যান্য রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই প্রসূতির স্বজনরাই সিজার করার জন্য চাপ দিয়েছে। নার্স ও আয়া বলেছিল স্বাভাবিক প্রসব হবে। কিন্তু প্রসূতির স্বজনরা তা মানতে নারাজ ছিলেন। এতে তারা নিজেরাই সিজার করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান।
এই ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন আহম্মদ কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আমার অধীনে নয়। এখানে আমার কিছু করার কোন এখতিয়ার নেই। ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে নার্স ও আয়ার অবহেলা ছিল। ঘটনাটি দুঃখজনক।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.