|| ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন হোয়াইট হাউসে আরও চার বছর থাকতে চান ট্রাম্প-দৈনিক বাংলার অধিকার
প্রকাশের তারিখঃ ৩ ডিসেম্বর, ২০২০
রয়টার্সঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও চার বছর হোয়াইট হাউসে থাকতে চান। তিনি বিষয়টি মুখ ফুটে না বললেও অবশ্য চলত। কারণ, নিশ্চিত পরাজয় সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে পরাজয় মেনে নেননি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অভিনব সব ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। এতেই বোঝা হয়ে গিয়েছিল, হোয়াইট হাউসের জন্য তাঁর বেশ মায়া পড়ে গেছে। অবশেষে বিষয়টি পরিষ্কার করে বললেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আসন্ন বড়দিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি নিজের ইচ্ছার কথা বলেন।
এক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, বড়দিনের অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও চার বছর হোয়াইট হাউসে থাকার বিষয়ে কথা বলেন। তবে সঙ্গে এও বলেন, এই চার বছর ২০২১ থেকে কিংবা ২০২৫ থেকে শুরু হতে পারে।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘দারুণ চারটি বছর গেছে। আমরা আরও চার বছরের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। না হলে চার বছর পর এখানে আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে।’
বিজ্ঞাপন দিন বিজ্ঞাপন পড়ুন দৈনিক বাংলার অধিকার এ
দারুণ চারটি বছর গেছে। আমরা আরও চার বছরের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। না হলে চার বছর পর এখানে আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে
ডোনাল্ড ট্রাম্প,মার্কিন প্রেসিডেন্ট
অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের অধিকাংশের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিও সেভাবে মেনে চলা হয়নি। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও মিথ্যা দাবি করে বলেন, তিনিই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু তারা (ডেমোক্র্যাটরা) এটা পছন্দ করেনি। আমার আইনি দলের সঙ্গে যে ভুয়া শুনানি হয়েছে, তা কি আপনারা দেখেছেন? সত্যিই এটি ছিল হতাশাজনক।’
ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় হেরে যাওয়া ও এরপর ওই অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পক্ষে অবস্থান তৈরি করতে চালানো চেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশে কথা বলেন। বরাবরের মতোই সেখানেও তিনি নির্বাচনে নিজেকেই জয়ী বলে দাবি করেছেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে এখন পর্যন্ত এর বাইরে কিছুই বলেননি তিনি।
তবে নিজের পরাজয়ের বিষয়টি তাঁর কাছে পরিষ্কার বলেই এখনই আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে কথা বলা শুরু করেছেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে ঘনিষ্ঠদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি আলাদা কমিটিও গঠন করেছেন তিনি। রিপাবলিকান দলের ওপর তাঁর প্রভাব এখনো অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। এটা এতটাই যে, ট্রাম্পকে এড়িয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানানোর কাজটিও খুব বেশি রিপাবলিকান নেতা করতে পারেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেকের সঙ্গে আবার এই সময়ে দূরত্বও তৈরি হয়েছে।
জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের দিন ট্রাম্প অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকবেন না
ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন, তবে অনেক রিপাবলিকান নেতার জন্যই আগামী চার বছর বেশ জটিল হয়ে উঠবে। কারণ, একদিকে তাঁদের ট্রাম্পকে সমঝে চলতে হবে। অন্যদিকে নতুন প্রশাসনের অধীনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে গেলে এমন অনেক কাজ করতে হবে, যা হয়তো ট্রাম্পের পছন্দ হবে না। ফলে দুই নৌকায় পা রেখে চলার মতো বিপজ্জনক কাজ তাঁদের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের আস্থা হারানোর ঝুঁকিও থাকবে। আবার এমন অনেক শীর্ষ নেতা রয়েছেন, যারা ট্রাম্পের কারণে এবার প্রার্থী হননি। পরেরবার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন। এমন নেতারা দ্রুতই ট্রাম্পকে ত্যাগ করতে পারেন।
এদিকে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের দিন ট্রাম্প অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, তিনি অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকবেন না। প্রেসিডেন্টের একাধিক উপদেষ্টা এ বিষয়ে তাঁকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন, তাঁর সে অনুষ্ঠানে থাকা উচিত। আরেকবার নির্বাচনে লড়ার ইচ্ছা থাকলে পরাজয় স্বীকার না করলেও অবশ্যই অভিষেক অনুষ্ঠানে থাকতে হবে। তা না হলে মানুষের কাছে মনে হতে পারে, পরাজয়ের তিক্ত অনুভূতির কারণেই প্রেসিডেন্ট এমন একটি অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেন। বিষয়টি তাঁর দুর্বলতা প্রকাশ করবে।
অবশ্য এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছুই বলেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। একবার শুধু বলেছেন, ‘আমি জানি অভিষেকের দিন আমি কী করব। আমি খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু এ বিষয়ে কিছু বলার ইচ্ছা আমার নেই।’
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.