গাইবান্ধায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ॥ ট্রেন চলাচল বন্ধ ॥ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত।

0
40

রাকিবুল ইসলাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পানি ও প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি পুনঃরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত ১৫ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৫ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি ৪ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ইতোপূর্বে বন্যা কবলিত যে সমস্ত এলাকা থেকে পানি সরে গিয়েছিল সে সমস্ত এলাকাসহ নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে দ্বিতীয় দফা বন্যায় মানুষের দূর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এদিকে বন্যায় গাইবান্ধা থেকে বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন বন্যার পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে রেলওয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ওই এলাকা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন। কেননা ত্রিমোহিনী রেলস্টেশন থেকে বাদিয়াখালী রেলস্টেশন পর্যন্ত একাধিক পয়েন্টে রেললাইনের নিচের মাটি বন্যার পানিতে ধুয়ে গেছে এবং এ সমস্ত এলাকায় রেল লাইন ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে, কমপক্ষে তিন সপ্তাহের আগে এই রুটে ট্রেন চলাচল চালু করা সম্ভব হবে না। এদিকে এক টানা আটদিন যাবত লালমনিরহাট-সান্তাহার সকল রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রেল যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের কবলে পড়তে হচ্ছে।

গাইবান্ধা পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে বাঙ্গালি ও করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌরসভাসহ কয়েকটি গ্রামে নতুন করে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় খোলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই, চকমামরোজপুর, কাজীপাড়া, বাহারবন পশ্চিমপাড়া, সরকারপাড়ার কিছু অংশ এবং ডেভিডকোম্পানীপাড়ার পশ্চিম অংশে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এখনও অনেক ঘরে পানি রয়েছে। তাই বাঁধসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত বানভাসি লোকজন এখনও ঘরে ফিরে যেতে পারছে না। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সমস্যা প্রকট। ফলে জনগণকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এদিকে বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রাম ও ২টি পৌরসভার ৫ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ৮৭০টি। তাদের বেশীর ভাগই নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে এসে উঠছে। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৯৭টি। এছাড়া ১৪ হাজার ২১ হেক্টর আউশ ধান, আমন বীজতলা, রোপিত আমন, পাট ও শাকসবজি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে এবার বন্যায় ১টি গরু, ৩ হাজার ৭২০টি হাঁস-মুরগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ১৫০ মে. টন চাল, ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৬ হাজার শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যা অপ্রতুল্য। আরো ব্যাপক ত্রান তৎপরতা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা জরুরী।