আজ ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

ছাগলনাইয়ায় ফুটপাতের আশে পাশে শীতে পোষাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছে ক্রেতা – দৈনিক বাংলার অধিকার

সেপাল নাথ, ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি:
প্রকৃতিতে এখনো শীতের প্রভাব পড়েনি। তবুও শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। সকাল সন্ধ্যা শীতের হিমেল হাওয়া গায়ে লাগতে শুরু করছে। তারই ধারাবািহক ভাবে ছাগলনাইয়া কয়েক দিন ধরে কিছুটা শীত ও কুয়াশা পড়তে শুরু করায় প্রতিনিয়ত মানুষ ভীড় জমাচ্ছে শীতের গরম কাপড় কেনার জন্য ফুটপাতের দোকান গুলোতে। মার্কেটের দোকান গুলোতে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তরা ভীড় জমাচ্ছে। নিম্ম আয়ের মানুষেরা পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে রাস্তার পাশে ফুটপাত ও হকার্স দোকানীর কাছে ভিড় জমাচ্ছে। বিশেষভাবে লক্ষনীয় মৌসুম ভিত্তিক দোকানগুলোতে শীতের কাপড় কেনা-বেচা পুরোদমে চলছে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) বাজার ঘুরে জানা যায়, এখানে প্রায় ৮ – ১০টি স্থানে ফুটপাতে নতুন পুরাতন শীতবস্ত্র বিক্রয় হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত এই দোকান গুলোতে চলে বেচা-কেনার ধুম। বাজারের জিরো পয়েন্টে ভ্রাম্যমান হকার মোঃ ইউসুফ বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুম আসলেই আমাদের বিক্রয়ের অবস্থা একটু উন্নতি হয়. তাই সেই আশায় এবছরেও শীতের পোষাক নিয়ে আসলাম। বাজারের দোকান গুলোতে নিম্মবিত্ত থেকে শুরু করে প্রায় মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা প্রতিনিয়ত ভীড় করেন বলে জানা যায়। কারণ মৌসুমের শুরুতেই শীত পড়তে শুরু করায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় হচ্ছে এই দোকান গুলোতে। গত কয়েক দিন ধরে শীত পড়তে থাকায় প্রচন্ড শীত থেকে মানুষ একটু গরম অনুভব করার লক্ষ্যে আগে থেকেই ভীড় জমাচ্ছে বড় দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান পর্যন্ত। ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষন করতে আলোকসজ্জা সহ হরেক রকম বাহারী পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ফুটপাতের বিক্রেতারা। শুরুতেই শীত বস্ত্রের চাহিদা বাড়ায় তারা ঢাকা ও চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন মার্কেট থেকে দেশী-বিদেশী হরেক ডিজাইনের শীতের পোশাকের (বেইল) গাঁইট নিয়ে আসছে বলে জানা যায়। এখানের দোকান গুলোতে নতুন পুরোনোর কদর বেশি। পুরনো এসব পোশাক যথেষ্ট সস্তা এবং বেশ শীত নিবারন দায়ক বলে অনেকের ধারণা।
সর্বনিম্ম ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের শীতের কাপড় পাওয়া যায়। শীত বস্ত্র বিক্রেতারা বলেন, পোশাকের (বেইল) গাঁইট ক্রয়ে ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। মুখবন্ধ এসব (বেইল) গাঁইট কেনার আগে খুলে দেখার নিয়ম নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতি (বেইল) গাঁইট ক্রয় করে আনা হয় ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। কিনে আনার পরে খুলে নির্ধারণ করা হয় লাভ-লোকসানের হিসাব। পোশাকগুলো (বেইল) গাঁইট থেকে বের করার পর দাম হাঁকেন বিক্রেতারা। কোন প্রকার পোশাকের মূল্য নির্দিষ্ট করা থাকে না। গাঁইট থেকে বেরিয়ে আসা দেশী বিদেশী পুরনো পোশাকটি ক্রেতার খুব পছন্দ হয়ে গেলে তা বুঝতে পেরে সে অনুযায়ী দাম হাঁকা হয়। ক্রেতাদের কাবু করতে পারলে টাকার পরিমান বেড়ে যায়। এসব দোকানের বিক্রেতারা পোশাকের দাম নির্ধারন করেন। তবে দর কষাকষি ছাড়া পছন্দের পোশাক ক্রেতাদের কেনা সম্ভব হয় না। সব পোশাকের দাম একটু বেশি করে চাওয়া হয়। যাতে বিক্রেতারা তাদের লাভ পুষিয়ে নিতে পারে। বিক্রেতারা বলেন, সব বয়সী নারী পুরুষদের পোশাক বিক্রয় করা হচ্ছে এসব দোকান গুলোতে. তবে ভাগ্যের উপর নির্ভর করে আমাদের লাভ-লোকসান। যদি ছেঁড়া ফুটো পোশাক পড়ে তাহলে লাভ উঠতে অনেক কষ্ট হয়। ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে এসব শীতবস্ত্র আনা হয় বলে জানা যায়। এবছর শীতের পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বাড়তি হচ্ছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেন। দৈনিক ৫-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয় বলে বিক্রেতারা জানান। বিক্রেতারা আশা করছে এবছর দোকানে শীতের পোশাকের চাহিদা বাড়বে এবং বিক্রয় আরো বেশি হবে বলে মনে করেন।

     এই বিভাগের আরোও সংবাদ