কচুয়ায় কমেছে পাট চাষ ॥ দাম নিয়ে বিপাকে-দৈনিক বাংলার অধিকার

0
67

মোঃ মাসুদ মিয়া,কচুয়া,চাঁদপুর ॥
চাঁদপুরের কচুয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। সোনালী আঁশ হিসেবে খ্যাত পাট চাষ এখন অনিহার পথে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কৃষি জমি অকৃষিতে পরিণত হওয়া, স্বল্প সময়ে জমিতে অধিক ফসল ফলানোর প্রবণতা, পাট পচনের পানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পাট চাষ যেন এখন কৃষকের অবহেলায় পরিণত হয়েছে।
প্রতি বছরই পাট চাষের জমি কিছু কিছু করে কমছে। এবার ভরা মৌসুমেও পাট মিলেনি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষি পাট চাষ বন্ধ করে দিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরই পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা কমছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৩’শ ৫৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষি বিভাগের দেওয়া হিসেব মতে প্রতি বছরই পাট চাষের আবাদ জমি কমছে।
পাট চাষি জামাল হোসেন জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কৃষি কাজের সাথে জড়িত রয়েছন তিনি। আগে শুধু পাট চাষ করেই সংসার খরচ চালাতে পারতেন, কিন্তু এখন পাট চাষ করে খরচের টাকাও উঠে না। বর্তমানে দু’এক জন ছাড়া আর কেউ পাট চাষ করে না। এখন সবাই পাট চাষের বদলে ধান চাষ করে। এবছর প্রতিমন পাট বিক্রি হয় ৬শ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। এ দামে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, পাট চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছে না । বিগত বছরের তুলনায় এবছর পাট চাষীরা ন্যায্য মূল্যে থেকে দাম পাচ্ছে না তাই পাট চাষের আবাদ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে পাট চাষীরা। তাছাড়া এ উপজেলায় পাট চাষ করার মত জমির পরিমাণ বেশি থাকা সত্ত্বেও দাম না পাওয়ার কারনে কমে যাচ্ছে পাট চাষ। পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাষিদের গঠনমূলক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং পাট চাষে আগ্রহ হচ্ছে কৃষকের।