সাপাহারে মাছ বাজার চলছে রাস্তার উপর শিক্ষার্থী সহ জন সাধারনের ভোগান্তি-দৈনিক বাংলার অধিকার

0
104

 

সোহেল চৌধুরী রানা, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরে খুচরা ও পাইকারী মাছ ক্রয় বিক্রয় চলছে জন সাধারনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে।

সরকারী ভাবে তৈরীকৃত টিন সেটের মাছ ক্রয় বিক্রয়ে জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলেও ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রম চলছে জন সাধরনের চলাচলে রাস্তার উপর।

সরকারী ভাবে মাছ ক্রয় বিক্রয়ের জন্য নির্ধারিত সেটের বাহিরে রাস্তার চর্তুর পার্শ্বেই গড়ে তুলেছেন পাইকারী ব্যাবসায়ীরা মৎস্য আড়ৎ (কমিশন এজেন্ড) ঘর।

রাস্তার চর্তুর পার্শে কিছু স্বার্থনেশী মহল অর্থের বিনিময় মৎস্য আড়ৎ স্থাপনের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে একাধিক মৎস্য আড়ৎ ব্যাবসায়ী মৎস্য সরবরাহ করা যান বাহন জন সাধরনের চলাচলের রাস্তায় বন্ধ করে সেখানেই চালাচ্ছে মৎস্য ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রম।

এখানে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নছিমন, করিমন, ভূটভুটি, অটো ভ্যান, ব্যাটারি চালিত আটো চার্জার, পিকআপ ভ্যান সহ নানা ধরনের গাড়ী মাছ নিয়ে এসে রাস্তায় থামিয়ে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। এবং মৎস্য ক্রেতা বিক্রেতা ভীড় জমিয়ে জন চলাচলে রাস্তার উপর মাছ ক্রয় বিক্রয়ের করেন।

যার ফলে সকাল ৬ টা থেকে শুরু করে বেলা ১০ টা পর্যন্ত রাস্তায় মারাত্মক যানযট লেগেই থাকে। রাস্তার উপর অবাধে মাছের ব্যবসা চলায় নিত্যদিনই চরম যানজট ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাপাহার চৌধুরী পাড়া, কুচিন্দা সহ আসে পাশের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী বৃদ্ধা শিশু সহ রাস্তায় চলাচলরত এলাকাবাসীর।

এছাড়াও রাস্তার উপর মৎস্য ক্রয় বিক্রয়ের কারণে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে চারিদিকে। ময়লা আবর্জনা যুক্ত পানি জমিয়ে থাকছে যত্রতত্র।ফলে একদিকে বিনষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাটের পরিবেশ অপরদিকে মাছের দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন পথচারীরা।

চৌধুরী পাড়া সহ আস পাশ হতে বাজারে চলাচলের সম্পূর্ণ রাস্তাটিই সকাল ৬ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত ব্যাবসায়ীরা দখলে নিয়ে মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফলে নিত্যদিন এই রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন অনকে শিক্ষার্থী সহ জনসাধারণ। রাস্তার উপর এমন ব্যবসার কারনে মারাত্মক সমস্যায় রয়েছেন পথচারীরা। একটুও জায়গা হাঁটা চলার জন্য খালি থাকেনা।

রাস্তাটিতে স্কুল সময়ে যান বাহন এবং ক্রেতা বিক্রেতায় প্রচন্ড ভীড় থাকার কারনে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনার আশংকাও করছেন এলাকাবাসী। সে কারনে পথচারীগন রাস্তাটিতে পারাপার হতে গেলে সবসময় আতঙ্কে থাকেন। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এর প্রতিকার চান সর্বস্থরের শিক্ষার্থী অভিভাবক সহ এলাকাবাসী।

রাস্তাটিতে চৌধুরী পাড়া, কুচিন্দা, পোষ্ট অফিস পাড়া মহল্লা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সহ অসংখ্য জন সাধারনের চলাচলের একটিই মাত্র রাস্তা।

রাস্তার উপর এমন অবৈধ ব্যবসার নিন্দা জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, সরকারী টিন সেট মার্কেটের তুলনায় রাস্তার পার্শ্বে আড়ৎ সংখ্যা বেশি থাকায় কেনা বেঁচা বেশি হয়, আড়ৎগুলির নিজেস্ব জায়গা না থাকায় তারা সবাই রাস্তার উপর মাছের গাড়ি থামায়, এবং রাস্তার উপরি বেচা কেনা শুরু করেন।

এলাকাবাসী রাস্তার জায়গা ছাড়ার অনুরোধ করলে, মৎস্য ব্যাবসায়ী পক্ষ থেকে বলেন জায়গা স্বল্পতার কারনে রাস্তার বাহিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এলাকাবাসী জানান, আমাদের চৌধুরী পাড়া হতে মুরগি বাজার রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই, মাছ বাজারে পরিনত হয়েছে।

রাস্তার উপর মাছের ব্যবসা, আমরা তো মারাত্মক সমস্যায় আছি। জানিনা কবে এই সমস্যার সমাধান হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষথেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে আমরা এলাকাবাসী শান্তিতে চলাচল করতে পারতাম।

একাধিক স্কুল শিক্ষার্থীরা জানান, রাস্তা পারাপার করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। মাছের ব্যবসার জন্য আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। একটুও খালি জায়গা অবশিষ্ট থাকে না, যেদিকে আমরা হাটাচলা করতে পারি।

আমরা এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রান পেতে চাই। তারা আরো জানান, রাস্তায় অনেক সময় আমাদের নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

সব সময়ই যানজট লেগে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। হাটা চলার মত একটু জায়গাও খালি পাওয়া যায়না। এখানে যে ব্যবসা শুরু হয়েছে কবে জানি এর পরিত্রান হয় কে জানে? এ বিষয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে মৎস্য ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা সদরে একটি মাত্র মাছ বাজার যার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারনে ব্যাবসায়ী সহ জন সাধারনের নানা মূখি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জন সাধারন সহ আমাদের চরম ভোগান্তির সম্মূখীন হতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এধরনের সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি একান্ত ভাবে কাম্য। এবং পাইকারী মাছ বাজার টি অন্যত্র স্থানান্তরিত করা যায় কি না সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামানা সু বিবেচনার দাবী জানান।