আজ ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

আজ শিব লিঙ্গ পুজা মেয়েরা শিব পুজা করে কেন করে

দৈনিক বাংলার অধিকারঃ স্বপন কুমার রায় খুলনা ব্যুরো প্রধানঃ
শিব শব্দের অর্থ হলো মঙ্গল,আর লিঙ্গ শব্দের হলো প্রতীক শিব শব্দের অর্থ হলো মঙ্গল, আর লিঙ্গ শব্দের অর্থ হল প্রতীক। তাই শিব লিঙ্গ শব্দের অর্থ হল মঙ্গলের প্রতীক।শিব লিঙ্গের উপরে তিনটি সাদা তিলক (দাগ) থাকে
যাহা তিনটি অংশ দ্বারা গঠিত। প্রথম অংশ শিব পিঠ দ্বিতীয় অংশ বিষ্ণু পিঠ তৃতীয় অংশ ব্রক্ষ্ম পিঠ। যা আদি অন্তহীন সওার প্রতীক।তাই সনাতনধর্ম্বাবলীর লোকেরা মঙ্গলের প্রতীককে পুজা করে এটা শুধু মেয়েরা নয়, সকলেই শিব পুজা করে।
স্কন্দ পুরাণে আছে বৈষ্ণব হয়ে শিবরাত্রি ব্রত করলে শিবের কৃপায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতি প্রেমভক্তি বর্ধিত হয়ে থাকে। যথাসম্ভব বৈষ্ণবদের মধ্যে শিবিরে স্থান সর্বোচ্চ। যারা প্রকৃতপক্ষে শিবের ভক্ত, তারা শিবের উপদেশ অনুসারে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর পাদ্মপদ্মে আশ্রয় লাভ করেন। বৃন্দাবনে গোপ বালিকাগন মহাদেব শিবের পূজা করেছিলেন। তারা শিবের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি যেন তাদের আশীর্বাদ করেন, যাতে তারা পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে লাভ করতে পারেন।মহাদেব শিব শান্ত এবং সহজে উপাসকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের বর প্রদান করেন। ব্রজ গোপিরা যে পূজা করেছিলেন তাতে তাদের কোন দোষ ছিলনা তারা নিত্য পরমপুরুষ ভগবানকে লাভ করার বাসনা নিয়ে শিবের পূজা করেছিলেন। কিন্তু কৃষ্ণবহির্মূখ বদ্ধজীবেরা পরম বৈষ্ণব শিবের আরাধনা করছে জড়জাগতিক বস্তু লাভের আশায়। ব্রজ গোপিদের অনুসরণ করে মেয়েরা জড়জাগতিক স্বামী পাওয়ার জন্য শিবরাত্রি ব্রত পালন করে। তাদের শিবের মতো বর প্রাপ্তির কামনা থাকে। মন জড় বাসনা দ্বারা বিকৃত হলেই দেবতাদের শরণাগত হয়। রাবন শিবের কাছে জড়জাগতিক বর লাভ করেছিলেন। কিন্তু শিবের আর্শীবাদ অপব্যবহার করার ফলে সেই আশীর্বাদ তার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।
সমসাময়িক হিন্দুধর্মের তিনটি সর্বাধিক প্রভাবশালী সম্প্রদায়ের অন্যতম শৈব সম্প্রদায়ের প্রধান দেবতা এছাড়া শিব স্মার্ত সম্প্রদায়ে পূজিত ঈশ্বরের পাঁচটি প্রধান রূপের (গণেশ, শিব, সূর্য, বিষ্ণু ও দুর্গা) একটি রূপ। তিনি ধ্বংস, সংহার ও প্রলয়কারী দেবতা।
সর্বোচ্চ স্তরে শিবকে অসীম, সর্বোৎকর্ষ, অপরিবর্তনশীল ও নিরাকার মনে করা হয়। শিবের অনেকগুলি সদাশয় ও ভয়ঙ্কর মূর্তিও আছে। সদাশয় রূপে তিনি একজন সর্বজ্ঞ যোগী। তিনি কৈলাস পর্বতে সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করেন।আবার গৃহস্থ রূপে তিনি পার্বতীর স্বামী। তাঁর দুই পুত্র বর্তমান। এঁরা হলেন গণেশ ও কার্তিক। ভয়ঙ্কর রূপে তাঁকে প্রায়শই দৈত্যবিনাশী বলে বর্ণনা করা হয়। শিবকে যোগ, ধ্যান ও শিল্পকলার দেবতাও মনে করা হয়।

শিবমূর্তির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল তাঁর তৃতীয় নয়ন, গলায় বাসুকী নাগ, জটায় অর্ধচন্দ্র, জটার উপর থেকে প্রবাহিত গঙ্গা, অস্ত্র ত্রিশূল ও বাদ্য ডমরু। শিবকে সাধারণত ‘শিবলিঙ্গ’ নামক বিমূর্ত প্রতীকে পূজা করা হয়।সমগ্র হিন্দু সমাজে শিবপূজা প্রচলিত আছে। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা রাষ্ট্রে বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের কিছু অংশে শিবপূজার ব্যাপক প্রচলন লক্ষিত হয়। এই পবিএ শিব পুজাকে নিয়ে কিছু অসাধু দুস্কতিরা নানা রংঙ্গে ঢংঙ্গে উপস্হাপন করে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করে ধর্মের কুলসিত আনার চেষ্টা করে থাকে। তাই অনুরোধ নিজের ধর্মকে জেনে। অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন। দুস্কৃতির হাত থেকে নিজের মা বোনদের বদনাম থেকে রক্ষা করুন।

     এই বিভাগের আরোও সংবাদ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১